
কিন্তু মুমালের কাছে এ পরীক্ষাও যথেষ্ট ছিল না। রানা মহেন্দ্র তাকে বিশ্বাস করেন তো ? মনে শত সন্দেহ জাগলেও মহেন্দ্র ছাড়া আর কাউকে মুমাল ভালোবাসে না সেটুকুও কি যাচাই করে তিনি দেখবেন না ? নিজেকে বাঁচাতে অন্য রানাদেরও খুশি রাখতে হয়, তাতে রানা মহেন্দ্র মাঝে মাঝে বিরূপ হন। যদি কখনো সেরকম কিছু হয়, যাচাই করে নেবার ধৈর্য ও সাহস দেখাবেন
তো !
এই চিন্তায় অধীর হয়ে এক রাতে মুমালের বোনকে পুরুষের বেশে সাজিয়ে নিজের কাছে শুইয়ে রাখল মুমাল। অমরকোট থেকে রানা মহেন্দ্র ব্যাকুল হয়ে এসে এই দৃশ্য দেখে বুকে তার যেন আগুন জ্বলে গেল। এ অসহ্য, অবিশ্বাস্য। আর এক মিনিট দাঁড়ালেন না রানা মহেন্দ্র। সেই রাতেই অমরকোটে ফিরে গেলেন।
মুমাল একজন দূত পাঠাল রানার কাছে --- যে, রানাকে গিয়ে বলো তাঁর নটী মারা গেছে। ওদিকে রানাও এক দূত পাঠিয়ে খবর পাঠালেন যে তার প্রিয়তম রানার মৃত্যু ঘটেছে। একজন দূত অন্যজনের খবর জানতে পারল না। মুমালের পক্ষে এই মর্মান্তিক বেদনা সহ্য করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল। একজন অন্যের জন্য জীবন দিল। কী ভয়ংকর এই ট্র্যাজিক প্রেমের পরিণতি ! প্রেম কি তবে ধৈর্য্যেরই পরীক্ষা ? শুধু আবেগময়তা নয় ?
দশম শতাব্দীতে লুধরবা ভট্টি রাজপুতদের হাতে আসে। ইতিহাসের হিসেব এই মরুদেশে বারবার হারিয়ে যায়। এইযে কত হাজার বছর বয়স লুকোতে বালুরাশির গহ্বরে ডুব দিল, আর মুখ তুলল না বলে সেই হিসেবও কবে যে একদিন হারিয়ে গেল কে জানে ! আজকাল খোদাই করে সামান্য যেটুকু হিসেব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যায় যে একাদশ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত রাজপুতদের সুরক্ষার জন্য দুর্গ ও রাজপ্রাসাদ যেমন গড়ে ওঠে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হওয়াতে বড়ো বড়ো শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য রাস্তাঘাটও নির্মাণ করা হয়। প্রাচীনকালে উত্তর-পশ্চিম থেকে লুধরবায় যেতে হলে মরুভূমির পথ ধরে একটা যে মশহুর রাস্তা ছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায় মুসলিম ইতিহাসে। মরুভূমির এই পথটা পাঞ্জাব থেকে গুজরাট পর্যন্ত ব্যাপ্ত ছিল। এই পথ দিয়ে এসে মহম্মদ গজনী একাদশ শতাব্দীতে সোমনাথ আক্রমণ করে মন্দিরে রত্নভাণ্ডার লুটপাট করেন। সৈনিকদের জন্য প্রচুর খাদ্য সামগ্রী, প্রচুর পরিমাণে জল এবং পশু খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০০ মতো উটের এক বাহিনীকে লাগানো হয়েছিল জল বইবার কাজে। রাস্তাটা কম ক্লান্তিকর ছিল না। সৈন্যরা যখন ক্লান্তিতে আর পেরে উঠছিল না, তখন সুলতানের নির্দেশে তারা লুধরবাতে বিশ্রাম নিয়েছিল। এতেই প্রমাণ হয় লুধরবা তখন বেশ সমৃদ্ধ শহর হিসেবে গণ্য হত।
জয়সলের ঊর্ধ্বতন ষষ্ঠ পুরুষ দেওরাজ ভট্টি। বিজয় রাওয়ের পুত্র দেওরাজ। বিয়ে দিয়েছিলেন বরাহপতির মেয়ের সঙ্গে। এদের সঙ্গে বিজয় রাওয়ের শত্রুতা ছিল।
বরাহপতি কৌশলে বিজয় রাও আর ৮০০ জাতি কুটুম্বকে বধ করল। দেওরাজ বরাহপতির পুরোহিতের কাছে আশ্রয় নেয়। বরাহরা তানোট দখল করে নেয়। এবং সব ভট্টিদের নিশ্চিহ্ন করে। বরাহদের মধ্যে খুব সন্তর্পনে বেঁচেছিল দেওরাজ। তানোটের হত্যাকাণ্ড থেকে দেওরাজের মা-ও বেঁচে গিয়েছিলেন। মামাবাড়ি বুটাতে গিয়ে দেওরাজ মাকে দেখতে পেল। এখানেই দেওরাজের ভাগ্য ফিরেছিল। এক যোগীর কৃপায় এখানেই তার বিপুল অর্থ লাভ হয়। এই যোগীর আদেশ এই এরা অভিষেকের সময় ভেক ধারণ করতেন।
এর পর আগামী সংখ্যায়