তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
শত কণ্ঠে সমবেত সঙ্গীত

মনোময় ভট্টাচার্য, জয়তী চক্রবর্তী, সুতপা ভট্টাচার্য, দুর্নিবার সাহা, আরফিন সাহা, সুচিস্মিতা চক্রবর্তী, দীপন মিত্র, দীপমালা হালদার ও কবীর সুমনের গানে গত ১৭ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ বেহালা-ঠাকুরপুকুর ক্লাব সমন্বয় সমিতি আয়োজিত বেহালা উৎসব অনুষ্ঠিত হল বড়িশা হাইস্কুলের মাঠে। প্রসঙ্গত, কবীর সুমন এই প্রথম বেহালা এলাকায় তাঁর গান নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তাঁর কথা থেকেই জানা গেল একসময় তিনি এই বেহালা এলাকারই বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবা কটক থেকে বদলি হয়ে কলকাতায় এলে তাঁরা বেহালার ব্রাহ্মসমাজ রোডে বাড়ি ভাড়া নেন। উল্লেখ্য তাঁর বাবা সুধীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন গত শতকের চার-পাঁচ দশকের একজন সুপরিচিত শিল্পী এবং আকাশবাণীর কর্মী। বলতে গেলে কবীর সুমনের কলকাতার প্রথম ঠিকানাই ছিল বেহালা। কবীর সুমন(তখন তিনি সুমন চট্টোপাধ্যায়)-এর বয়স ছিল পাঁচ বছর। তাঁর কথাতেই জানা গেল বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী সন্তোষ সেনগুপ্তও তখন থাকতেন বেহালার সরশুনা অঞ্চলে।

বেহালা উৎসবে কবীর সুমনের গান যে বেহালাবাসীর কাছেঅন্যতম আকর্ষণ ছিল সেকথা বলাই বাহুল্য। কারণ কবীর সুমনের অনেক পরিচয়। তিনি একজন বাঙালি গায়ক, গীতিকার, সুরকার, সাংবাদিক, গদ্যকার এবং রাজনীতিক। তিনি নিজের আরও একটি পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। সেটি হল--- তিনি যোদ্ধা। এই যুদ্ধ তাঁর শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে, এই যুদ্ধ তাঁর অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, এই যুদ্ধ তাঁর শুদ্ধ গানের চর্চায়, এই যুদ্ধ মানুষের বেঁচে থাকার এবং গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার আহ্বানে। যদিও তিনি কথায় কথায় বলেন ‘প্রেম’। বেহালা উৎসবেও কবীর সুমন হাজির ছিলেন তাঁর সেই ‘প্রেম’ নিয়ে। একের পর এক গানে তিনি সেই প্রেমের কথায় ও সুরে, নাগরিক ক্লান্তি মুছিয়ে দিতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে, প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন। কিন্তু শ্রোতাদের কাছ থেকে কী তেমন সাড়া পেলেন? সাধারণত কবীর সুমন যে কোনো অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের কাছ থেকে যে উষ্ণ অভিনন্দন পেয়ে থাকেন তা প্রায় এই অনুষ্ঠানে ছিলই না বলা যায়। আয়োজকরা তাঁকে অভ্যর্থনায় কার্পণ্য করেননি কিন্তু শ্রোতাদের পক্ষ থেকে তেমনটা লক্ষ্য করা গেল না।

যদিও এদিনও তাঁর গানের সুরের ফাঁকে ফাঁকে ছিল রাজনীতি, ধর্ম,দর্শন, সমাজ। প্রতিটি অনুষ্ঠানে গানের মাধ্যমে তিনি যেভাবে অনায়াসে শাসক আর শোষকদের কটাক্ষ করেন, বুক টান করে সমাজের সঙ্গতি আর অসঙ্গতিগুলি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন, এখানেও তার ঘাটতি ছিল না, কিন্তু শ্রোতাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। মাত্র কয়েকজন শ্রোতা গান শেষে করতালি দিয়েছেন অথচ সুমন যখন গান গেয়ে ওঠেন, কথা বলেন, শ্রোতারা উচ্ছাসে করতালি দেন, অভিনন্দন জানান। কিন্তু অবাক হতে হল, শ্রোতাদের মধ্যে সেই উচ্ছ্বাসের অভাব দেখে। তাঁকে একটি গানের জন্য অনুরোধ পর্যন্ত করলেন না একজন শ্রোতাও। শ্রোতাদের আবেগ কিংবা উচ্ছ্বাস থেকেই কিন্তু একজন শিল্পী উৎসাহিত হন। তবে কী সুমনের গান আর তেমন করে শ্রোতাদের উদ্বেল করে না, না কী শীতের সন্ধ্যায় তাঁরা জবুথবু মেরে গিয়েছিলেন! সুমন কিন্তু শ্রোতাদের আবেগকে জাগিয়ে তুলতে চেষ্টার কোনো কসুর করেননি। তাহলে আর কেন সাতাত্তর বছর বয়সী মানুষটিকে ডেকে আনা !


Scroll to Top