
সৎ সাহসের এত অভাব !
সাধারণ জনতা বুঝতে পারছে যে সোশ্যাল মিডিয়ার চিলচিৎকারে বাধ্য হয়ে ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশের বাঁহাতি জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলার অনুমতি দিল না। যে নির্দেশ শুনে কলকাতা নাইট রাইডার্স সঙ্গে সঙ্গে মুস্তাফিজুরের চুক্তি বাতিল করে দিল। কেকেআর কর্তৃপক্ষ বলেছে, বোর্ডের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে তারা মুস্তাফিজুরকে স্কোয়াডের বাইরে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হল। কিন্তু ভারতীয় বোর্ড কোনো কারণ প্রকাশ্যে জানায়নি। জলের মতো পরিষ্কার, মুস্তাফিজুর কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে নামার সময় যে বিস্ফোরণ গ্যালারির বাইরে এবং ভেতরে ঘটবে, তা উপলব্ধি করেই ভারতীয় বোর্ড ব্যাকফুটে চলে গেল। তবু, মুস্তাফিজুরকে খেলতে না দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া এই কপি লেখার সময় পর্যন্ত দিতে পারেনি বোর্ড। সাহসের এত অভাব ?
নিলামের সময় ৯.২ কোটি টাকা দিয়ে কেকেআর কর্তৃপক্ষ মুস্তাফিজুরকে সই করিয়েছিল। কেকেআর এখন বোর্ডের কাছে জানতে চাইছে, মুস্তাফিজুরের জন্য যে ৯.২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল, সেই টাকা তো তাঁদের কোষাগারে ফেরত আসবে। এখন প্রশ্ন হল, ওই টাকা দিয়ে কেকেআর কি নতুন ক্রিকেটার সই করানোর দিকে নজর দিতে পারবে? বোর্ড এ ব্যাপারে এখনও কোনো উত্তরই দিতে পারেনি। সহজ উত্তর সঙ্গে সঙ্গেই দিয়ে দিতে পারে বোর্ড। একথা তো বলাই যায় যে, মুস্তাফিজুরের টাকায় অন্য ক্রিকেটারকে সই করানো যেতেই পারে। এমন উত্তর দিতেও কত টালবাহানা !
মুস্তাফিজুর নিজে কী বলছেন। তিনি কী করবেন এখনও তা বোঝা যাচ্ছে না। এমনকী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বাংলাদেশে যে গন্ডগোল শুরু হয়েছে, তার পেছনে তো মুস্তাফিজুরের হাত নেই। পদ্মার ওপারে যেভাবে হিন্দুনিধন যজ্ঞ চলছে, তা মেনে নিতে পারছে না এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। তাই ধারাবাহিকভাবে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। দগদগে ক্ষত হয়ে রয়েছে ময়মনসিংহের ফ্যাক্টরি হিন্দুকর্মী দীপুচন্দ্র দাসকে যেভাবে মারা হয়েছে এবং তারপর তাঁকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা মেনে নিতে পারছে না এদেশের হিন্দুরা। তাই, মুস্তাফিজুর যাতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রায় ফতোয়া জারি করে ছেঁটে ফেলা হল। কে বলে খেলার মাঠে নাকি রাজনীতি নেই?
তবে, অপেক্ষা করুন কহানি মে টুইস্ট আসবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন। একা মুস্তাফিজুরকে যদি অনুমতি না দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশ দল কীভাবে ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসবে? তখনও কি প্রতিবাদ জানাবে নেটিজেনরা ? যুক্তি বলছে, হ্যাঁ। তখন কিন্তু সমস্যা আরও বাড়বে। এবং শুনলে অবাক হবেন, প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে, ৭ ফেব্রুয়ারি সূর্যকুমার যাদবরা যেদিন মুম্বইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খেলতে নামবে, সেদিনই ইডেন উদ্যানে বাংলাদেশের খেলার কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। কলকাতায় তখন বেশ কয়েকদিন থাকবে বাংলাদেশ দল। ৭ ফেব্রুয়ারির পর, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিরুদ্ধে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। ১৪ মার্চ ইডেনেই ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষও বাংলাদেশ। এবং যেহেতু পদ্মাপারের দেশ ভারতের গ্রুপে রয়েছে, সেই ম্যাচটিও সূর্যকুমারদের খেলতে হবে কলকাতায়। সুষ্ঠুভাবে বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়ে কলকাতায় বিশ্বকাপের খেলা আয়োজনের ব্যাপারটা কিন্তু আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।