তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
বালি নোটো-র আয়োজনে অন্তরঙ্গ মনোজ মিত্র স্মরণ

 মনোজ মিত্র বাংলা নাট্যজগতে পা রাখেন গত শতকের পাঁচের দশকের শেষে অর্থাৎ শম্ভু মিত্রের নেতৃত্বে যখন নবনাট্য পথ চলা শুরু করেছে, গণনাট্য ভেঙে জন্ম নিচ্ছিল ছোট-বড় নাট্যদল...

  একুশ বছর বয়স পর্যন্ত যার বাসনা ছিল গল্প লেখার সেই তিনি শেষমেশ লেখেন নাটক। তাঁর লেখা নাটক ‘মৃত্যুর চোখে জল’, ‘চাক ভাঙা মধু’ মঞ্চে প্রযোজিত হওয়ার পর তিনি নাটককার হিসাবে পরিচিত হন। এরপর ‘অশ্বত্থামা, ‘নরক গুলজার’, ‘সাজানো বাগান’ তাঁকে বিখ্যাত করে দেয়। মনোজ মিত্র শুধু নাটককার নন, মঞ্চে ও সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নাটক পরিচালনা করেছেন দীর্ঘদিন। গত ২২ ডিসেম্বর ছিল মনোজ মিত্রের ৮৭ তম জন্মদিন। বালি নোটো-র উদ্যোগে সেই উপলক্ষে তপন থিয়েটারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্তরঙ্গ মনোজ মিত্রকে স্মরণ করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ মুন্সি এবং রাম মুখোপাধ্যায় পরিবেশন করেন নাটকের গান। মনোজ মিত্র বাংলা নাট্যজগতে পা রাখেন গত শতকের পাঁচের দশকের শেষে অর্থাৎ  শম্ভু মিত্রের নেতৃত্বে যখন নবনাট্য পথ চলা শুরু করেছে, গণনাট্য ভেঙে জন্ম নিচ্ছিল ছোট-বড় নাট্যদল। মনোজ মিত্র প্রায় পাঁচ দশক নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বাংলা নাট্যমঞ্চে নাটক রচনা, অভিনয় এবং পরিচালনা করেছেন। একই সময় বাংলা নাট্যজগতে বিচরণ করেছেন উৎপল দত্ত, বাদল সরকার এবং মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের মতো দিকপাল প্রতিভা। তা স্বত্বেও মনোজ বাংলার জল মাটি হওয়া, বাঙালি জীবনের হাসি-কান্না আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, বিষাদ-মমতাভরা জীবনকে স্বতন্ত্র ভাষায় নাট্যরূপ দিয়ে তাঁর সময়কালে অবিসংবাদী শ্রেষ্ঠ নাটককার হয়ে ওঠেন। কেবল তাই নয়, তিনি বিচিত্র বিষয় নিয়ে নাটক লিখেছেন। সে নাটকের জন্য কোনও দিনই তাঁকে আঙ্গিকের নতুনত্ব সন্ধান করতে হয়নি। বরং গল্প বলার সহজ সরল ধরনেই তিনি অনন্য, সেখানেই তাঁর নিজস্বতা। মনোজ তাঁর নাটকে প্রায়শই ভূত, প্রেত ইত্যাদি ব্যবহার করতেন, যা তাঁর নাটকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, বিশেষত রাজনৈতিক সচেতনতা ও সামাজিক ব্যঙ্গ ফুটিয়ে তোলার জন্য; তিনি ভূত ও মানুষ-এর মতো সাহিত্যে প্রচলিত অলৌকিক ধারণাকে রাজনৈতিক ও মানবিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ভালো-মন্দের গল্প বলতেন, যেখানে ভূত-প্রেতেরা প্রায়শই ভালো মানুষ বা হারিয়ে যাওয়া নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে ফিরে আসত, যা নাটককে গভীরতা দিত এবং দর্শকদের ভাবাতে বাধ্য করত, যেমনটা দেখা গেল তাঁর জন্মদিনে বালি নোটো প্রযোজিত ও অমর চট্টোপাধ্যায় ও ময়ূরী মিত্র পরিচালিত ‘ভূত পুতুলির বেশে’ নাটকে। একেবারেই অপ্রচারিত এই নাটকে মনোজ গল্প বলতে রূপক ও প্রতীকবাদের আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্য ভূতরা কেবল ভৌতিক চরিত্র নয়, বরং তারা সমাজের নানা ধরনের মানুষ। ভূত ব্যবহার করে তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক অসঙ্গতি, দুর্নীতি, এবং মানুষের নৈতিক অবক্ষয় তুলে ধরেছেন গল্পের মাধ্যমে। এদিন সন্ধ্যায় একই অনুষ্ঠানে বালি নোটো-র পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ নাটক প্রকাশের শতবর্ষ উপলক্ষে ‘রক্তকরবী’ নাটকের সম্পাদিত অংশ পাঠ করেন অমর চট্টোপাধ্যায় ও ময়ূরী মিত্র। ছবি : অতনু ঘোষ

Scroll to Top