তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন

সম্পাদকীয়

Ashis-Pandit-Headshot
আশিস পণ্ডিত

১৫ জুন, ২০২৬

মনে আছে, কলেজে একটা বই পড়েছিলাম, 'টেন ডেজ দ্যাট শুক দ্য ওয়ার্ল্ড' - রুশ বিপ্লবের ওপর লেখা। আমার তো মনে হয়, ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে বাংলার রাজনীতি যেমন রোমহর্ষক হয়ে উঠেছে, তাতে এরকম একটা বই লিখে ফেলাই যায়। তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ে নাহয় অবাক হওয়া ছাড়া আর বিরাট কোনও প্রতিক্রিয়া বঙ্গবাসীর ছিল না, কারণ ভোটে হারজিৎ আছে । কিন্তু তার পর থেকে যা যা ঘটতে লাগল, তাতে বিস্ময়ে হাঁ হয়ে যাওয়া মুখ যেন আর বন্ধই হতে চাইছে না। শুধু এরাজ্য নয়, গোটা দেশের নজর এখন বাংলার দিকে।

এই সেদিন যিনি ছিলেন হাতে করে গড়া দলটির একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী, সেই মমতা ব্যানার্জি আজ নিঃসঙ্গ, দিশেহারা, বিপন্ন। তাঁর অতি বিশ্বস্ত সহচরেরা প্রায় কেউ নেই পাশে। পরিষদীয় ও সংসদীয় দুটি টিমই ভেঙে খানখান। তার উপরে উভয়সঙ্কট - বিশেষ স্নেহভাজন ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জির দিকে ধেয়ে আসছে যাবতীয় অভিযোগের তীর। তাঁকে রাখা আর ফেলা, দুটোই সমান কঠিন তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে।

একের পর এক পুরবোর্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। রোজই পুলিশ-সিআইডি- সিবিআইর হাতে দুর্নীতি, তোলাবাজি, খুন-জখমের দায়ে ধরা পড়ছেন কালীঘাট ঘনিষ্ঠ নেতা- কর্মীরা। অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোট দানা বাঁধার সম্ভাবনা ক্রমশই ফিকে হয়ে আসছে। দেশের কথা ছেড়ে যদি রাজ্যের কথা ধরি, তাহলেও স্বস্তির কারণ নেই। ডবল ইঞ্জিন সরকারের উপযোগিতা কতটা, তা টের পেতে সময় লাগবে কিছুদিন। কিন্তু এই মুহূর্তের বিপদ হল, গণতন্ত্রের ভিত ধসে পড়া। বিধানসভায় শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ না থাকলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। এবং শেষমেষ আটকে যায় উন্নয়নের রথের চাকা। থ্রিলারের থেকেও বেশি উত্তেজক এই রাজনীতির রঙ্গ চায়ের দোকানের আড্ডায় ভাল খোরাক হতে পারে, কিন্তু আখেরে রাজ্যবাসীর জন্য অশনি সঙ্কেত।

 আমাদের বিশেষ কিছু প্রকল্প

NIIEM-Ad
Diahome-Ad
Ad-OSSD
Scroll to Top