
কথামতো এসেছিলেন তিনি। জয়ও করে নিয়েছিলেন অপেক্ষায় থাকা কয়েক লক্ষ মানুষের মন। কিন্তু কলকাতা করতে পারল না শেষরক্ষা। মাঠের রাজপুত্রকে স্বচক্ষে দেখবার জন্য যাঁদের রাতের ঘুম উড়েছিল, চূড়ান্ত অব্যবস্থায় আশাভঙ্গ হল তাঁদের।
নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই যুবভারতী থেকে মেসিকে বার করে নিয়ে যাওয়ার ফলে তাঁরাই কিংবদন্তিকে দেখতে না পাওয়ার ক্ষোভে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গ্যালারি থেকে ছুঁড়লেন চেয়ার, বোতল। ভাঙ্গা চেয়ার দিয়ে মাথা বাঁচানোর চেষ্টায় আকুল হতে হল পুলিশকে। দফায় দফায় জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধের জেরে দক্ষযজ্ঞ বাধল যুবভারতীতে। মেসিকে ঘিরে থাকা মন্ত্রী-কর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ল জনতা। অভিযোগ, বিপুল টাকা দিয়ে চড়া দামে টিকিট কাটা সত্বেও মেসি কেবল নয়, এমনকি লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো ডি’পলকেও দেখা হল না। শুরু হয়েছিল উই ওয়ান্ট মেসি স্লোগান দিয়ে। আওয়াজ ওঠে চোর চোর। মাঠের ধারে রাখা তাঁবুতে অগ্নি সংযোগের চেষ্টা হয়। ছিঁড়ে ফেলা হয় পোস্টের জাল। ভেঙ্গে পড়ে সাজঘরে যাওয়ার টানেলের ছাউনি। ফেন্সিং ভেঙ্গে মাঠে আছড়ে পড়ে জনতা। যার জেরে পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নামাতে হয় র্যাফ। লায়োনেল মেসিকে ভারতে আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমান বন্দরের পথে গ্রেপ্তার করে মুখ বাঁচানোর চেষ্টা করল রাজ্য প্রশাসন। আগুনে ঘৃতাহুতি ততক্ষণে দাবানলে পরিণতি পেয়েছে। রওনা হয়েও মাঝপথ থেকে ফিরে গেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি দুঃখ প্রকাশ করে টুইট করেন।
এখন প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের মুখ পোড়ার দায়িত্ব কে নেবে? মূল আয়োজক হিসেবে যে শতদ্রু দত্তকে তড়িঘড়ি গ্রেফতার করা হল, তিনি কি আসলে বলির পাঁঠা? রাজ্য প্রশাসনের কি কোনো দায় নেই? রাজ্যের যে মন্ত্রীরা সপরিবারে মেসির সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন, পছন্দের নায়িকাদের মেসির পাশে দাঁড় করিয়ে ফটো সেশন করছিলেন, শাসকদলের অনুগতদের মেসির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন, তাঁদের কোনো গাফিলতি নেই? আর পুলিশ কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিল? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ মন্ত্রীও বটে। টুইটে মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে আর তড়িঘড়ি তদন্ত কমিটি গড়েই কি দায় সারবেন তিনি?