তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
নয়া শ্রমবিধি, প্রতিরোধে কর্মী সংগঠনগুলি

২১ নভেম্বর থেকে সারাদেশে কার্যকর হল  চারটি লেবার কোডের পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ। কেন্দ্রের দাবি, এই নয়া সংস্করণে ন্যূনতম বেতন নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা থেকে নিরাপত্তা সহ কর্মক্ষেত্রের সমস্ত পরিবেশের মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া নেওয়া হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিক ভাবে সারা দেশের কর্ম সংস্কৃতিতে।

   এই পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত আইনগুলির মধ্যে রয়েছে কোড অন ওয়েজেস, কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড এবং অকুপেশনাল সেফটি হেলথ এন্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস। অর্থাৎ, এবার থেকে প্রত্যেক কর্মীকে বাধ্যতামূলক অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেবার পাশাপাশি তাঁদের ইউনিভার্সাল সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা, অর্থাৎ সমস্ত কর্মীর পি এফ, বীমা এবং অন্যান্য সুবিধার সঙ্গে সঙ্গে প্রিভেনটিভ হেলথ কেয়ারের আওতায় ৪০ ঊর্ধ্ব সমস্ত কর্মীকে বছরে একবার বিনামূল্যে হেলথ চেকআপের সুবিধা, ডিলিট ওয়েজ প্র্যাকটিস বন্ধ করা, সময়ে বেতন প্রদান,  শিল্পক্ষেত্র সহ নানা সেক্টরে মহিলা কর্মীদের যথাচিত সুরক্ষা ছাড়াও একইসঙ্গে লিঙ্গনিরপেক্ষ এমপ্লয়মেন্ট প্রভিশন, পাঁচশোর বেশি কর্মী থাকা সংস্থায় সেফটি কমিটি ইত্যাদির সুবিধাও নিশ্চিত করার দিকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ।

  হিসেব মতো এই প্রথম গীগ প্লাটফর্ম ওয়ার্কারদেরও আইনি বৈধতা দেওয়া হল। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করা হল সমান বেতনের অধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা, বিশেষ করে সোশ্যাল সিকিউরিটি কভারেজ, নির্দিষ্ট ওয়ার্কিং আওয়ার ইত্যাদিও। হিসেব মতো বলা হচ্ছে এতে করে দেশের চল্লিশ কোটিরও বেশি কর্মীর জন্য কাজের পরিবেশ সরল করা হল।

   তবে ওয়াকিবহাল মহলের  মতে, এতে দেশের সংস্থাগুলিতে কর্মীদের স্বার্থ যেমন আগের থেকে বেশি সুরক্ষিত হবে তেমনই এই সংস্কার কার্যকরী হলে আরো সহজে কর্মীদের হায়ার অ্যান্ড ফায়ার নীতির আওতায় আনা যাবে। এমনকি এতে করে কারখানায় কাজের শিফটও বাড়ানো যাবে সহজেই। এই মর্মে দেশের দশটি বড়ো শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, এটা আসলে শ্রমিকদের প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী যেখানে বলা হচ্ছে এই সংস্কারের ফলে পুরনো জটিল নিয়মবিধি বদলে যাওয়ায় দেশে যেমন শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বাড়বে , একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ বোধ করবেন সেখানে শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই সংস্কার আসলে শিল্পের মালিকদের হাতে তুলে দিচ্ছে আরো অনেক বেশি ক্ষমতা, যার জন্য প্রথমত কর্ম সংস্থান যেমন বিঘ্নিত হবে , তেমনই শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তাও কমবে।

 সংস্কারে  খুশি হতে পারছেন না এমনকি ব্যবসায়ীকুলের একটা বড়ো অংশও। তাঁদের স্পষ্ট মত, শ্রমিকদের এইভাবে সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির ব্যয় বাড়বে বহুগুণ। বিশেষ করে যেখানে মার্কিন যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতির কারণে মার্চেন্ডাইজ রপ্তানি কমেছে গত বছরের তুলনায় অনেকটাই। তাঁরা দেখিয়েছেন, প্রায় সব মূল ক্ষেত্রেই যেহেতু রপ্তানি কমেছে, ফলে রপ্তানি নির্ভর শিল্পে অনিশ্চয়তার জন্য ধীরে ধীরে বাজার সংকোচনের পরিস্থিতির মুখে পড়তে চলেছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে এইসব সংস্কার দেশের পক্ষে শেষমেশ কতটা লাভজনক হবে সেটাও তাঁদের কাছে প্রশ্ন। 

   এইসব বিভিন্ন প্রেক্ষিতে দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে অবিলম্বে প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।


Scroll to Top