তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
কীসের ভিত্তিতে বারবার হাসিনাকে ফেরত চাইছেন ইউনূস ?

শেখ হাসিনাকে যেনতেন প্রকারে ফেরত পেতে মরিয়া ইউনূস সরকার। এই নিয়ে তৃতীয় বার প্রত্যর্পণের অনুরোধ এসেছে সীমান্তপার থেকে। দেশছাড়া নেত্রীর নামে সদ্য মৃত্যুদন্ড ঘোষণা হয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে। আওয়ামী লিগ দেশ জুড়ে লকডাউন কর্মসূচি নিয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে বারবার ফেরত চেয়ে কী প্রমাণ করতে চাইছেন মহম্মদ ইউনূস? নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি  না পড়ে এই আস্ফালন করছেন, এটা বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে কোন কোন কারণে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ফেরানো যায়। সেগুলো প্রতিটিই হাসিনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

A person may not be extradited if:

(a) he satisfies the Requested State that it would, having regard to all the circumstances, be unjust or offensive to extradite him...

মাত্র এগারো পাতার চুক্তিটি যে কেউ পড়ে নিতে পারেন ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে। সুতরাং তৃতীয় কেন, আগামীদিনে আরো অনেক বারের অনুরোধেও বরফ গলার আশা নেই। তবে কি আন্তর্জাতিক কোনো 'দাদা'র ভরসায় ইউনূস এই অনুরোধ জারি রাখছেন? মনে হয় না, কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দেশ ভারতের উপর এই বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেনি। গত একবছরে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। পহলগাম কান্ডের পর ভারতের অপারেশন সিঁদুর - পাকিস্তান এখন ঘোষিত শত্রু। আমেরিকা ও চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে রোজ নতুন নতুন বাঁক সৃষ্টি হচ্ছে। এদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওঠাপড়ার আঁচ নিকটতম প্রতিবেশীর গায়ে লাগতে বাধ্য। এই পটভূমিতেও বহির্বিশ্ব থেকে শেখ হাসিনাকে তাঁর দেশে ফেরানোর কোনো চাপ আসেনি। প্রথমদিনে যেমন, আজও তেমনি ভারত তার অবস্থানে অনড়, যতদিন চাইবেন, এদেশে থেকে যাবেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'অনির্বাচিত নেতাদের আগেও হঠিয়েছি আমি। আমার প্রার্থনা, আমার দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরুক।' তাঁর প্রবাসী পুত্র জয় টিভি চ্যানেলে জোর দিয়ে বলেছেন, 'আমার মা একদিন দেশে ফিরবেনই।' প্রসঙ্গত, ইউনূস ঘোষণা করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। তবে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এটুকু বলা যায়, সেই ভোট পর্বের চরিত্র কখনোই অন্তর্ভুক্তিমূলক যথার্থ গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

১৯৭৫ সালে পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবার পরিজনদের অনেকে নিহত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন হাসিনা। মাতৃস্নেহে দুই বোন হাসিনা, রেহানাকে আগলে রেখেছিলেন পারিবারিক বন্ধু  ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর নির্দেশেই প্রণব মুখার্জি অভিভাবকের মত দেখভাল করতেন বিপর্যস্ত তরুণীদের, তিনি ছিলেন তাঁদের 'কাকাবাবু'। এর প্রায় ছ'বছর পর দেশে ফিরে রাজনীতির ময়দানে পুরোদস্তুর নেমে পড়েন হাসিনা। আজ পড়ন্ত বেলায় সেই ভারতেই তাঁর অপেক্ষা, পাশার দান উল্টে আবার কবে ময়দান প্রস্তুত হবে তাঁর পুনরাভিষেকের জন্য।


Scroll to Top