তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
হিমালয়ের কোলে সাহিত্য উৎসব

হিমালয়ের পাদদেশে গল্পের শহর দেহরাদুন আবারও রঙিন হল সাহিত্যের আলোয়। ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর দুন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আয়োজিত সপ্তম দেহরাদুন লিটারেচার ফেস্টিভ্যালের এ বছরের মন্ত্র ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। পৃথিবীকে এক পরিবারের বন্ধনে বাঁধার আহ্বান।

উৎসবের শুরু থেকেই ছিল মুক্ত ভাবনার উচ্ছ্বাস। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড় বললেন আইনের  মানবিক দিক নিয়ে। কিশোর সাহিত্যিক রূপা পাই পুরাণ–বিজ্ঞান–কল্পনার দুনিয়ায় টেনে নিলেন শ্রোতাদের। ইতিহাসের অন্তরাল উন্মোচন করলেন  নারায়ণী বসু। মননশীলতার সুর আনলেন জয়া কিশোরী। আর ‘সিতারে জমিন পর’-এর দলের সেশন ‘আপনা আপনা নর্মাল’ দর্শকদের আবেগে ভরিয়ে দিল। দ্বিতীয় দিনে উৎসবমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। নারী-নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন নিয়ে তাঁর বক্তব্য আলো ফেলল নতুন দিকগুলিতে। পরে একে একে মঞ্চে উঠলেন শিল্পী স্বরূপ সম্পত রাওয়াল, বিশাল ভরদ্বাজ, রেখা ভরদ্বাজ, মালিনী আওয়াস্থি, শেফালি শাহ প্রমুখ। সৃষ্টিশীলতার নানা রঙে নির্মিত হল বহুরঙা ছবি। শেষ দিনে ইতিহাসকে নতুন চোখে দেখতে শেখালেন স্যাম ড্যলরিম্পল। ‘Shattered Lands’-এর আলোচনায় উঠে এল দেশভাগের অস্থির প্রেক্ষাপট।  স্পেনের রাষ্ট্রদূত হুয়ান অ্যান্টোনিও মার্চ পুজোল তাঁর বই ‘The Great Reset’-এ দেখিয়েছেন ভবিষ্যতের দিশা।   শোভা দে নিজের বই ‘The Sensual Self’  নিয়ে বললেন স্বভাবসিদ্ধ নির্ভীক ভঙ্গিতে। সমাজ ও সিনেমার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করলেন নন্দিতা দাস, আর তরুণ লেখক অক্ষত গুপ্তা তুলে ধরলেন পুরাণ–আধুনিকতার নতুন সম্ভাবনা। উৎসবের পরিসমাপ্তি হল উষা উত্থুপ-এর প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে—হাসি, সুর আর উচ্ছ্বাসে ভরা এক সন্ধ্যায়। তিন দিনের এই মহোৎসব মনে করিয়ে দিল—গল্পই মানুষকে কাছে আনে, আর সাহিত্যই শেষপর্যন্ত আমাদের এক পরিবারে বেঁধে ফেলে।

                                                                        ছবি : লেখক


Scroll to Top