পুজো এল। চলেও গেল। পুজোর মুখেই মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বানভাসি মহানগর, খাস কলকাতার পথে তড়িতাহত হয়ে নাগরিকের মৃত্যু ঘিরে তীব্র ক্ষোভ কোনোমতে সামাল দিল প্রশাসন। মহালয়ার আগেই মমতার একের পর এক পুজো উদ্বোধন (মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানে প্যান্ডেল উদ্বোধন) নিয়ে এবারও বিস্তর সমালোচনা হল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম মোদির চিত্তরঞ্জন পার্কের পুজো দর্শন নিয়েও কম কটাক্ষ হল না। দুটোতেই রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পেলেন বোদ্ধা থেকে আমজনতা। বাংলায় ভোট আসছে বলে কথা। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে টিভি চ্যানেলের সান্ধ্য বাসর, সরগরম হল।
এ'পর্যন্ত তবু একরকম। এই তরজায় দেশবাসী অভ্যস্ত। কিন্তু পুজো কাটতে না কাটতেই পাহাড়ে যে অভাবনীয় বিপর্যয় নেমে এল, তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সঙ্কীর্ণ রাজনীতির খেলা যেকোনো সুস্থ বুদ্ধির মানুষকে হতবাক করে দিয়েছে। একদিকে জলের তোড়ে ঘরবাড়ি, সেতু ভেঙে পড়ছে, ভেসে আসছে লাশ, কত মানুষ নিখোঁজ, ত্রাণের জন্য হাহাকার আর অন্যদিকে কলকাতায় সরকারি পুজো কার্নিভালের মঞ্চ আলো করে বিনোদনের ঢালাও আয়োজন। যাও বা পরদিন মুখ্যমন্ত্রী গেলেন উত্তরে, দুর্গত এলাকায় কোথায় দল মত নির্বিশেষে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়বে মানুষকে বাঁচাতে, তা নয়, বিরোধী সাংসদের উপর হামলা আর তাই নিয়ে রাজনীতির চাপান উতোর।
শুধু তো এত মানুষের মৃত্যুশোক নয়, উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিও মুখ থুবড়ে পড়েছে। পর্যটনের ভরা মরশুমে এমন আঘাত সামলানো কঠিন। বিশেষ করে ছোটো ছোটো হোম স্টেগুলোর অনেকের আর অস্তিত্বই নেই। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে যাকে চালানো হয়, তার বেশির ভাগটাই যে মানুষের সৃষ্টি, নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংস করার পরিণতি, তা জেনেও না জানার ভান করে থাকাটাই সুবিধেজনক সরকারের পক্ষে। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে এই ধ্বংস যজ্ঞের তারাই তো প্রধান পুরোহিত।
সবচেয়ে দুঃখের কথা, রাজনীতির চশমা ছাড়া শাসক ও বিরোধী সবাই অন্ধ। তাই পুজো হোক কি বন্যা, ঘোলা জলে মাছ ধরা ছাড়া আর কিছুতেই আগ্রহী নন নেতারা।