তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
ঋত্বিক থেকে কাফকা: পপুলিজমের আড়ালেও ভিন্ন মাত্রা পেল কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব
যত দিন যাচ্ছে ততই পপুলিস্ট হয়ে উঠছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। মেলার চেহারা নিচ্ছে। এবার তো আলোচনা সভার অধিকাংশ ছিল গানময়। আলোচনা নয়, যেন গানের জলসা। তবুও এসবের মধ্যে প্রাপ্তিও আছে। যেমন ঋত্বিক শতবর্ষে ঋত্বিক ঘটককে নিয়ে খান দুই সেমিনার। যার মধ্য একটিতে ছিলেন অনুপ সিং, আদুর গোপালকৃষ্ণন।এঁরা পুনে ফিল্ম স্কুলে ঋত্বিক ঘটকের ছাত্র ছিলেন। সেখান থেকে আবিষ্কার করা গেল এক অন্য ঋত্বিককে। আরেকদিন সত্যজিৎ রায় স্মৃতি বক্তৃতা দিলেন পরিচালক রমেশ সিপ্পি। এবার পোলান্ড ছিল ফোকাস দেশ। ফলে বেশ কিছু পোলিশ ছবি দেখার সুযোগ মিলল এই উৎসবে।এছাড়াও ফ্রাঞ্জ কাফকার জীবন নিয়ে তৈরি ‘ফ্রাঞ্জ’ ছবিটি দেখতে পাওয়া উৎসবের বড়ো পাওয়া। যেমন কামুর ‘আউটসাইডার’ অবলম্বনে ‘স্ট্রেঞ্জার’ ছবিটি। বলা ভালো এই উৎসব ছিল ফেস্টিভ্যাল অফ ফেস্টিভ্যাল। কান, বার্লিন প্রমুখ চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা ছবিগুলো দেখানো হল কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে, যা দেখতে পাওয়া কলকাতার সিনেমেডদের কাছে এক অন্যন্য অভিজ্ঞতা। এই উৎসব ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত হয়। ৩৯টি দেশের ২১৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ: ‘Innovation in Moving Images’ শিরোনামে বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের কাজ প্রতিযোগিতায় ছিল। ভারতীয় ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগ, বাংলা প্যানোরামা, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ডকুমেন্টারি বিভাগ ইত্যাদিও ছিল। রেট্রোস্পেকটিভ ও পুনরুদ্ধারকৃত ক্লাসিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীতে ছিল সত্যজিৎ রায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ৪-কে রিস্টোরেশন সংস্করণ ইত্যাদি। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে ছিল এক চমক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হঠাৎ উপস্থিত হয়ে বিদেশি পরিচালকদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতা করেন। তিনি জানান, সারপ্রাইজ দিতেই সরাসরি নবান্ন থেকে এখানে চলে এসেছি।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে কিউবার চলচ্চিত্র ‘টু দ্য ওয়েস্ট ইন জাপাটা’ সেরা ছবি হিসেবে ‘Golden Royal Bengal Tiger Award’ পেল। একই ছবি ফিপ্রেস্কি (FIPRESCI) পুরস্কারও অর্জন করেছে। পরিচালক ডেভিড বিম। সেরা আন্তর্জাতিক ছবির পুরস্কার পেলেন শ্রীলঙ্কার ‘রিভারস্টোন’-এর জন্য নির্মাতা ললিত রত্ননায়ক। ভারতীয় ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে বিভিন্ন ভাষার কাজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। বাংলা প্যানোরামা বিভাগে ‘পড়শি’ ছবিকে সেরা হিসেবে পুরষ্কৃত করা হয়েছে। পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়। ভারতীয় ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে হীরালাল সেন স্মৃতি পুরিষ্কার পেল ‘শেপ অফ মোমো’।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: তিনি বলেছেন, ‘বাংলায় শিল্প-সাহিত্যের সাহচর্যে গড়ে ওঠা একটি পরিবেশ রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আগামী বছর আমরা বড়ো ভূমিকায় যাত্রা করব।’
অংশগ্রহণকারী চলচ্চিত্রের মধ্যে কিছু দেশের (যেমন বাংলাদেশের) অনুপস্থিতি দেখা গেছে।
বৃহত্তর দর্শক-উপস্থাপনায় ও দর্শকশহরে আরও সুচারু প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে জনপ্রিয় ও সাধারণ দর্শকদের জন্য। শিল্প ও বাণিজ্যিক সিনেমার সঙ্গে সমসাময়িক ও গবেষণাধর্মী সিনেমার সেতুবন্ধনের আরও সুযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সময়ে এই উৎসব ‘একটি বড়ো কদম’ নেবে — অর্থাৎ আয়োজন, অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। কলকাতার চলচ্চিত্র-পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও পার্টনারশিপের সম্ভাবনা রয়েছে।

Scroll to Top