
ফ্ল্যাশব্যাক। তিন বছর আগের ঘটনা। ২০২২ সালে মেয়েদের বিশ্ব কাপে এই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে তিন উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ভারতের ছিটকে যাওয়ার রাতের ঘটনা। গভীর রাতে চাকদা এক্সপ্রেস ঝুলন গোস্বামীর নিউজিল্যান্ডের হোটেলের ঘরে প্রবেশ করলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের দুই তারকা হরমনপ্রীত সিং এবং স্মৃতি মানধনা। দুজনেই সেদিন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য এই জোরে বোলারকে কথা দিয়েছিলেন যে পরের বার বিশ্ব কাপ তাঁরা জিতবেনই। তিনবছর পরে দলে ঝুলন থাকবেন কিনা সেদিন নিশ্চয়তা ছিল না। হরমনপ্রীত এবং স্মৃতি সেদিন ঝুলনকে কথা দিয়েছিলেন যে বিশ্ব সেরা দল তাঁরা হবেনই। এবার হল না, পরের বার ঝুলনের জন্যে এই ট্রফি তাঁরা নিশ্চয়ই জিতবেন। সেই বছরই ২৪ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ম্যাচ খেলে ঝুলন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানান। কিন্তু তাঁদের প্রিয় ‘ঝুলনদি’-কে দেওয়া কথা ভোলেননি হরমনপ্রীত-স্মৃতিরা। রবিবার নাভি মুম্বাই-এর ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে, ইতিহাস রচিত হল। ভারত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হল দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে। কেউ কথা রাখে না, কেউ কেউ রাখে। হরমনপ্রীত কাউর, স্মৃতি মানধানা রেখেছেন। ঝুলন এদিন মাঠে ছিলেন, কিন্তু অন্য ভূমিকায়, ধারাভাষ্যকার হিসেবে। কিন্তু, সেদিনের কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসেজল হয়ে ওঠে ঝুলনের দুই চোখ। তাঁদের প্রিয় ‘ঝুলনদি’-কে নিয়ে হরমনপ্রীত আর স্মৃতির উন্মত্ত আনন্দের নাচ ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে উপস্থিত জনতা আর টেলিভিশন সেটের সামনে রাত জেগে বসে থাকা কোটি কোটি দর্শক তা কী জীবনে ভুলতে পারবেন ? বেয়াল্লিশ বছর আগে ভারতীয় পুরুষ দলের বিশ্বকাপ জয়ের সেলিব্রেশন যাঁরা দেখতে পাননি বলে আক্ষেপ করেন তাঁদের সেই ক্ষোভ মিটেছে রবিবার ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে ভারত এফ বিশ্বকাপ জেতার আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখে। হোক না মেয়েদের ক্রিকেট! বিশ্ব চাষম্পিয়ন তো বটে। এ যেন এক নিঃশব্দ বিপ্লব ! মেয়েরা আজ মহাকাশ জয় করছে। তাদের এই বিশ্বকাপ জয় নিঃসন্দেহে মনে রাখার মতো। এরপর বহুবার হয়তো ক্রিকেটে বিশ্ব জয় আসবে, কিন্তু হরমনপ্রীত কাউরের নেতৃত্বে এই প্রথম জয়ের স্বাদই আলাদা। ২৯৮৩-র কপিলদেব নিখাঞ্জের সেই বিশ্বকাপ জয় অমলিন হয়ে আছে। পাঞ্জাব তনয় কপিলদেবের সঙ্গে বড়ো অদ্ভুত মিল এই হরমন প্রীতের । দুজনেই সাধারণ বাড়ির সন্তান। কপিলের বাড়ি হরিয়ানায়, তাই তিনি হরিয়ানা হারিকেন। হরমনপ্রীতও মোগার মেয়ে। হরমন প্রীতের নিকনেম হ্যারি অথবা হ্যারিমান। হরিয়ানা হারিকেনের কাছাকাছি শোনাচ্ছে না ?
চোদ্দ অগাস্ট ব্রিটিশদের চলে যাওয়া এবং পনেরো অগাস্ট স্বাধীনতা পাওয়ার মুহূর্তটি ডোমিনিক লপিয়েরের কল্যাণে - ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট বলে পরিচিত। ভারত বিশ্ব কাপ জিতেছে মধ্য রাতের কিছু পরে। তাইএই জয়কে ওয়ার্ল্ড কনকারড অ্যাট মিডনাইট বলতেই পারি। সমস্বরে একবার বলুন – ‘বলো বলো বলো সবে , ভারত আবার জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে….’