তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
নিউ ইয়র্কে মেয়র নির্বাচনে জয় দক্ষিণ এশীয় নেতা মামদানির

জয় লাভ করলেন জোহরান মামদানি। ৩৪ বছর বয়সী  ডেমোক্রেটিক সোসালিস্ট দলের এই তরুণ নেতা নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান দের মনোনীত কার্টিজ স্লিওয়াকে পরাজিত করেছেন। হিসেব মতো মামদানি পেয়েছেন ৯৪৮২০২ ভোট , যা কিনা মোট ভোটের ৫০.৬ শতাংশ। তাঁর বিরুদ্ধে কুওমো পেয়েছেন ৭৭৬,৫৪৭ ভোট, যা মোট ভোটের ৪১.৩ শতাংশ এবং স্লিওয়া পেয়েছেন ১৩৭,০৩০ ভোট। এই ফলাফলের নিরিখে মামদানিই হলেন নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র এবং এই পদে অধিষ্ঠিত প্রথম দক্ষিণ এশিয়া নেতা।

হিসেব বলছে, এই নির্বাচনে প্রায় ১ লক্ষ নানা প্রজন্মের নিউ ইয়র্কবাসী মামদানির হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যাই বেশি বলে খবর। 

 ২০২৬-এর ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন মামদানি। ৩৪ বছর বয়সে তিনিই হবেন এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে শহরের সবথেকে কম বয়সী মেয়র। হিসেব বলছে এই নির্বাচনে কুড়ি লক্ষেরও বেশি ভোটারের রেকর্ড ভোট পড়েছে, যা ১৯৬৯-এর পর এই শহরে মেয়র পদে নির্বাচনে অঙ্কের হিসেবে সবথেকে বেশি ।

  মামদানির প্রচার শহরের জীবনযাত্রার ওপর সব থেকে বেশি নজর দিয়েছিল । শহরে  যেসব বাস চলে তার ভাড়া মকুব করা এবং পরিষেবা ত্বরান্বিত করা ছাড়াও তাঁর নির্বাচনী  প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ারের কথাও। এর পাশাপাশি তিনি বলেছেন ২০৩০ সালের মধ্যে ঘন্টায় ৩০ ডলারে ন্যূনতম মজুরি তুলে আনার কথা। তিনি ডাক দিয়েছিলেন খাদ্যের বাড়তি দামের মোকাবিলার জন্য শহরের মালিকানাধীন মুদির দোকান স্থাপন করারও।

  মামদানির এই জয় সমালোচিত হয়েছে বেশ কিছু ব্যবসায়িক ও আর্থিক সংস্থার তরফে। তারা সতর্ক করে বলেছে যে মামদানির নীতি স্থানীয় মন্দার কারণ হতে পারে ।

  এই সঙ্গে আমেরিকার নিউ জার্সি সহ আরো বেশ কিছু শহরেও মেয়র নির্বাচন চলছে, যেখানে অনেক শহরেই ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা পরাজিত হয়েছে বলেই খবর, যা রিপাবলিকানদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মামদানির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প তাঁকে ‘১০০ শতাংশ উন্মাদ কমিউনিস্ট’ আখ্যাই কেবল দেননি, সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল অর্থ অনুদান বন্ধ করার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন বলে খবর। বিজয়ের পরে যার প্রেক্ষিতে সহাস্যে মামদানি তাঁকে উদ্দেশ্য করে আরো গলা চড়ানোর পরামর্শই দিয়েছেন।  

   জয়ের প্রেক্ষিতে মামদানি তাঁর বিজয় ভাষণে জওহরলাল নেহেরুর স্বাধীনতা ভাষণটি উদ্ধৃত করে  সরাসরি রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বার্তাই দিয়েছেন যে, একজন মুসলিম এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের সমর্থক হিসেবে তিনি ভয় পাবেন না এবং তাঁর জয় নিউইয়র্ক সিটি আমেরিকার গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের কাছে আশা এবং আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে । ফলাফল ঘোষণার পর মামদানির মা , পদ্মভূষণ পাওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার সোশ্যাল মিডিয়ায়  গর্ব এবং আনন্দ প্রকাশ করেছেন।  


Scroll to Top