
শেষ-গ্রীষ্মের আমেজ মেখে সম্প্রতি আট বছর কাটিয়ে এল কলকাতার প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘প্রতীতি’। সম্প্রতি এই বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে সংস্থার তরফে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাঘরে আয়োজিত হয়েছিল এক সর্বাঙ্গসুন্দর আবৃত্তির আসর। এদিন এই সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বিজয়লক্ষ্মী বর্মণের পরিচালনায় সম্মেলক আবৃত্তির অনুষ্ঠান ‘এই করেছ ভালো’। রবীন্দ্রসৃষ্টির সম্ভার বাঙালিকে ঋদ্ধ করেছে তার মননে, তার দর্শনে, তার যাপনে। প্রতিনিয়ত এই ঋদ্ধির ছায়া রয়ে যায় আমাদের দিনানুদৈনিকতার অন্দরে। ‘গীতাঞ্জলি’ অবলম্বনে এদিনের এই আলেখ্যে সেই ঋদ্ধির ছায়াই রাখলেন সম্মেলক পরিবেশনার শিল্পীরা। বিজয়লক্ষ্মীর একক পরিবেশনাতেও স্বভাবতই ছিল সেই মননেরই স্পর্শ , যা তাঁকে সমসময়ের কাছে অসম্ভব জরুরি করে রেখেছে। একক আবৃত্তির আসরে এদিন ছিল নবীন-প্রবীণের মিলন মেলা। রীনা দেব, অমিতাভ ভট্টাচার্য, সুজয় রায়চৌধুরী, মৌসুমী মুখার্জি পাল, স্বপন ভট্টাচার্য, মহুয়া বসু সেন সহ বাচিক শিল্পীদের কন্ঠে সমসময় আলোকিত হয়ে উঠেছিল অন্য আবহে। বিষ্ণু দে,শঙ্খ ঘোষ ,বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী প্রমুখের পাশাপাশি জয়দেব বসু, শ্রীজাত,অংশুমান করের কবিতার আবহে শান্তনু পালের যোগ্য সঞ্চালনায় এদিনের অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছিল স্মরণীয়। ‘প্রতীতি’ তার এই যাত্রাপথে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে এদিনের অনুষ্ঠানের মানই বলে দেয় সে অভিজ্ঞতা দীর্ঘ পথ চলার জন্য তাদের ঋদ্ধ করেছে আমর্ম।