তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
৪৫ বছর আগের হেডিংটা এখনও বাংলার ক্রিকেটের সঙ্গে মানানসই

     

আটের দশকের শুরু। ওই সময় বাংলার ক্লাব ফুটবলে বেশ কিছু ভিন রাজ্য ও বিদেশি ফুটবলার নিয়ে দল গড়েছিল এক প্রধান ক্লাব। ৪৫ বছর আগের ঘটনা। তো ১৯৮০ সালে এক বিখ্যাত ফুটবলার, যিনি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। একটা সময় ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কও ছিলেন। তিনি হলেন শান্ত মিত্র। কিছু অযোগ্য, দায়িত্বহীন ভিন রাজ্যের ও বিদেশি ফুটবলারদের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে বহুল প্রচারিত এক সংবাদপত্রে প্রতিবেদন লিখেছিলেন শান্ত মিত্র। যার শিরোনাম ছিল - "ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না।" সেই সময় খুবই প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদনটি বাংলার ফুটবলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। প্রতিবেদনটির মধ্যে দিয়ে শান্ত মিত্র বুঝিয়েছিলেন যে, বাংলার ফুটবলের আবেগ, লিগের ছোট - বড় ম্যাচের হার, দর্শকদের চাহিদা, গুরুত্ব - এই ভিন রাজ্যের বা বিদেশিরা বুঝতেন না। আর বোঝার চেষ্টাও করতেন না। স্বাভাবিক ভাবেই দলে তার প্রভাব পড়তো। পাঁচের দশকে তো ভিন রাজ্য থেকে কলকাতায় এসে খেলে গিয়েছেন আমেদ খান, থঙ্গরাজ সহ পঞ্চপাণ্ডব। পরবর্তীকালে হাবিব, নঈম, কান্নন। তাঁরা কিন্তু বাংলার ফুটবলের আবেগটা বুঝেছিলেন। পরে যত বছর গিয়েছে ততই আবেগহীন অযোগ্য ভিন রাজ্যের ফুটবলারের সংখ্যা বেড়েছে। আর ফুটবলের সেই উত্তেজনা, সাফল্য কমেছে।

   বাংলার ক্রিকেটের করুন চেহারা দেখতে দেখতে ৪৫ বছর আগের শান্ত মিত্রর সেই প্রতিবেদনটার কথা আমার মনে পরে গেল। আজ থেকে ২৫ বছর আগে বাংলা শেষ রঞ্জি ট্রফি জিতেছিল। তারপরে দুই একবার বাংলা সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠেছিল, কিন্তু আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। পাঠকরা প্রশ্ন করতেই পারেন যে, ২৫ বছর আগেও তো রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন বাংলা দলে ভিন রাজ্যের ক্রিকেটাররাও ছিলেন! হ্যাঁ ছিলেন। সম্বরণ ব্যানার্জির নেতৃত্বে সেই বাংলা দলের ভরসা ছিলেন অরুন লাল, অশোক মালহোত্রা, শ্রীকান্ত কল্যাণীরা। তাঁরা ভিন রাজ্যের ক্রিকেটার হলেও "ভাড়াটে সৈনিক" ছিলেন না। বাংলার সংস্কৃতি, বাঙালির খেলাধুলার প্রতি যে আবেগ ছিল সেগুলোকে মনের মধ্যে গেঁথে নিয়েছিলেন অরুন, অশোকরা। যে কারণে মন থেকে বাংলা দলে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছিলেন ওঁরা। সামাজিক ভাবে ক্রিকেট প্রেমীদের সঙ্গে অনায়াসে মিশতে পেরেছিলেন। যা "ভাড়াটে সৈন্য" দের মধ্যে দেখা যায় না।

মোহাম্মদ শামি, আকাশ, মুকেশ এবং অভিমুণ্য ঈশ্বরণ - এঁরা প্রত্যেকেই ভিন রাজ্যের ক্রিকেটার। এঁরা বাংলায় এসে রঞ্জি খেলে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু বাংলা দলে বা ঘরোয়া লিগে এদের ইনভল্ভমেন্ট নেই। পরিযায়ী শ্রমিকের মত তিন মাসের জন্য বাংলায় ক্রিকেট খেলতে আসেন। খেলা শেষ হতেই নিজের রাজ্যে ফিরে যান।

    এই বাংলা থেকে বহু প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে এসেছেন। সেই তালিকাটা দীর্ঘ। পরে তাঁরা মাথা উঁচু করে খেলেছেন। বাংলা থেকে শেষ সফল প্রোডাক্ট হল ঋদ্ধিমান সাহা। এখন বাংলার ক্রিকেটে বাঙালি তারকা ক্রিকেটারের সংখ্যা দূরবীন দিয়ে দেখতে হয়। শূন্য থেকে মহা শূন্য এর দিকে এগিয়েছে। শুধু রঞ্জি দল নই, BCCI এর সব টুর্নামেন্টে বাংলা দলে বেশিরভাগ ভিন রাজ্যের ক্রিকেটার। CAB লিগেও একই ছবি। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়া হচ্ছে। যে সব ক্রিকেটারদের নথিগত সমস্যা আছে তাদেরকেও জাল নথি তৈরি করিয়ে দিয়ে ঘরোয়া লিগে খেলাচ্ছেন বাংলার ক্রিকেট কর্তারাই। এর পিছনে চলে টাকার খেলা। আজ তা জলের মত পরিষ্কার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, CAB লিগের মান খুব খারাপ। ব্যাটার বা বোলাররা খুব সহজেই সাফল্য পেয়ে থাকে।  সেই কারণে ভিন রাজ্যের বিশাল সংখ্যার ক্রিকেটাররাও বাংলায়া খেলতে চলে আসছে। সেই তুলনায় বাঙালি ছেলেরা সুযোগ কম পাচ্ছে। ফলত, ভিন রাজ্যের মধ্যমেধার ক্রিকেটাররা ঘরোয়া লিগে খুব সহজে সাফল্য পেয়ে বাংলার রঞ্জি দলে জায়গা করে নিচ্ছে। আর সুযোগ পেলেও রঞ্জি ম্যাচ খেলতে গিয়ে অন্য রাজ্য দলের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ছে।

   গড়ের মাঠের বিভিন্ন ক্লাবে, বাংলা দলে অযোগ্য ভিন রাজ্যের ক্রিকেটার ভোরে গেছে। এর ফলে বাংলার ক্রিকেটে কোনও উন্নতি হচ্ছে না। ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। এর দায় নিতে হবে CAB কর্তাদেরই।


Scroll to Top