তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
মায়ানমার এখন অবস্থা অনেকটা সামলে উঠেছে  

প্রায় ১ বছর পর মায়ানমার এলাম। এবারের গন্তব্যের তালিকায় ছিল কেবল ইয়াঙ্গুন। কারণ, নেপিডোর আর মান্ডালে দুটো জায়গাই ভূমিকম্পে কার্যত জানতাম বিধ্বস্ত। তাই এবারের ট্রিপে আর ওসব জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও যাওয়া হয়ে উঠল না। নেপিডোর মায়ানমারের নতুন রাজধানী। বড়ো বড়ো অফিসিয়ালদের সবাইকে ওখানেই পাওয়া যায়। ওটাই এখন এখানকার প্রাণকেন্দ্র।

 খবর নিয়ে যতদূর যা জানতে পারলাম সেটা হল, অবস্থা এখানে এখনো খুব সুবিধের নয়। তবে অবস্থা অনেকটা সামলে উঠেছে। বা বলা যায় সামলে উঠছে। তবে এখনো তিনটে শরণার্থী শিবির এখনো চলছে। আমার এক ভারতীয় বন্ধু , তাঁর নাম শীতল, তিনি বহুদিন মায়ানমার প্রবাসী। এবারেও দেখা হল, অনেক কথা হল। শীতল একটা এন জি ও চালান। তিনিই শুনলাম প্রায় ৮০ হাজার ডলারের ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে এসেছেন। শীতলকে এই কাজে খুব ব্যস্ত দেখলাম।

 কিন্তু যেটা ঘটনা তা হল আপনি যদি এখন ইয়াঙ্গুনে আসেন তাহলে দেখবেন এসবের কোনো চিহ্ন কিন্তু নেই। এমনকি লোকের মধ্যে এসব নিয়ে কোনো আলোচনা অব্দি নেই। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। দৈনন্দিন কাজেকর্মে এসব নিয়ে কোনো ব্যাঘাতের চিহ্নমাত্র চোখে পড়ল না।

  অন্যান্য বারের মতো এবারে এসেও অনেক ভারতীয়কে দেখলাম এখানে। সবাই কাজে ব্যস্ত। প্রচুর তামিল এখানে। আগেও দেখেছি ভারতীয়রা এখানে খুব ভালো ভাবেই গৃহীত হন। স্বাভাবিক। কেননা ভারতের সঙ্গে মায়ানমারের বাণিজ্যিক সৌহার্দ্য তো রীতিমতো সর্বজন বিদিত।

 যে হোটেলে উঠেছি সেটা ভারী সুন্দর। মায়ানমারের হেরিটেজ মেনে খুব চোখ জুড়োনো রকম সাজানো গোছানো। শুনেছিলাম এই হোটেলটা আতিথেয়তার জন্যে বেশ নামকরা। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক খ্যাতি আছে এই হোটেলের । শুনলাম সফরে এসে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং ওবামা আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী মোদিজিও নাকি এখানেই উঠেছিলেন। তবে ওঁরা বললেন দুজনেই এসেছিলেন প্রান্তন শাসক সূ চির সময়ে।

 MAUNGDAW হল মায়ানমারের দিক থেকে ওদের  সীমান্ত শহর। ওপারে টেকনাফ। MAUNGDAW-র মানুষ ওখানকার অবস্থা নিয়ে সচেতন বটে, কিন্তু দেখে বিচলিত মনে হল না। সকলেরই আশা দেখলাম অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে। সাধারণভাবে যতবার এসেছি দেখেছি মায়ানমারের মানুষ কিন্তু সাধারণত খুবই অতিথি পরায়ণ। এঁরা সাধারণ ভাবে খুবই নম্র, ভদ্র, শান্ত। ১০ বছর আগেও যখন এসেছি যেমন দেখেছি এখনো তা-ই। ফেরার সময় এগিয়ে আসছে। কাজ ছিল বটে, কিন্তু এবারের ট্রিপে আর রাজধানী নেপিডোর যাওয়া হয়ে হয়ে উঠল না। আক্ষেপ রয়ে গেল। আশা করি আগামীবার অবশ্যই যাওয়া হবে।         


Scroll to Top