তালিকা
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
আধুনিক বাঙালির ফেভারিট লোকেশন
 দেবতারে প্রেত করি, প্রেতেরে দেবতা 

                  

দশমহাবিদ্যার নবমজন মাতঙ্গী। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, মাতঙ্গী বাগদেবী। তিনি বাক্য, জ্ঞান এবং শব্দের দেবতা। এই দেবী একই সঙ্গে ধ্বংস এবং নির্মাণের অধিষ্ঠাত্রী। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায়, সম্প্রতি যে ওয়েব সিরিজটির হইচই-তে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে, তার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এই মাতঙ্গী দেবীর এক মূর্তিকে কেন্দ্র করে। শহুরে চাকরিজীবী অতীনের ( অনির্বাণ ভট্টাচার্য) শখ নানা অ্যান্টিক জিনিস সংগ্রহ করা। অবিবাহিত অতীন তার মায়ের পরিচারিকা পুষ্পদির ( সুদীপা বসু) সঙ্গে থাকে।  একদা, তার বন্ধুর নিলামঘরে আসা মাতঙ্গীর মূর্তিটি সে উপহার পায়। মূর্তি বাড়িতে নিয়ে আসার পরপরই নানা অলৌকিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। প্রথম রাতেই সে স্বপ্ন দেখে, দেবী মূর্তিটি তার কাছে খাবার চাইছে – পরেই আবার তার মাও স্বপ্নে এসে একই চাহিদা জানান্তে থাকেন, ‘খিদে পেয়েছে, খেতে দে’। ধন্দে পড়ে অতীন। দেবী এবং মায়ের এই একত্র হয়ে যাওয়া তাকে এক অলৌকিক ইঙ্গিত দেয়।  ইতিমধ্যে এক রাতে, অতীনের সঙ্গে পথে আকস্মিক দেখা হয় এক তরুণীর(পার্নো মিত্র) । এবং সেও জানায়, তার ক্ষিদে পেয়েছে, খাবার চাই। অতো রাতে একাকী মেয়েকে ফেলে আসতে পারেনি অতীন। ডামরী নামের সেই মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসে সে  এবং তার পরেই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায় পুষ্পদি। এবং অতীনের ঘরে পিশাচের  আবির্ভাব ঘটে। - এই পর্যন্ত গল্পের বিস্তার পড়ে আন্দাজ করে নেবেন না, ‘ভোগ’ শিহরণ জাগানো ভূতের ছবি। মূল গল্পটির লেখক অভীক সরকার। সেই ফ্লেভার ছবিতে তুলে ধরতে পারেননি পরমব্রত। প্রথমত, বারবার  দেবতার মুখে ‘খিদে পেয়েছে, আমার খেতে দে’ শুনতে শুনতে গোড়ার দিকে হাসি পেলেও পরে আর তার রেশ থাকে না। ওদিকে, ডামরীও ক্রমাগত অতীনকে, ‘দাইদাবাবু, ভোগ দেবেন না?’ বলতে থাকায় আলাদা করে এই বাক্যটির প্রতি আর গা ছমছমে অনুভূতি বাঁচে না।  ভগবানকে সামনে রেখে ভূতের ছবি বানানো অবশ্য পরমব্রতের প্রাকটিসের মধ্যে আছে। তাঁর পরিচালিত পূর্বের সিরিজ সেই কথায় জানায়। ‘ভোগ’ ছবিতে গল্প যেভাবে এগিয়েছে, তাতে যুক্তি এবং শাস্ত্রের ধার ধারেননি পরিচালক বা চিত্রনাট্যকার। বাগদেবীকে  ওরম করালবদনা , মাংসাশী রূপ দেওয়ার কারণ যদি তিনি দশমহাবিদ্যার একজন বলে ধরা হয়, তবে তাও একেবারেই যুক্তিগ্রাহ্য নয়। শাস্ত্রমতে, মাতঙ্গীর ক্ষমতা শব্দ এবং কথায় – সরস্বতীর সঙ্গে তাঁর মিল প্রকট। এক্ষেত্রে, চিত্রনাট্যের বদান্যতায়,  এই ছবি পুরোপুরি   কনফিউজড তার প্রকৃ্তি কী হবে, তা নিয়ে – পরিচালক দেবীকে ভূতের ভূমিকায় চালান করেছেন বটে কিন্তু ছবিতে না তৈরি হয়েছে ভয়ের বাতাবরণ না হয়েছে ভক্তির আবহ, সে যতই অনির্বাণ গাত্র উন্মুক্ত করে ধেই নৃ্ত্য করুন। একজন শিক্ষিত, তথাকথিত আলোকপ্রাপ্ত,  প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ হিসেবে অতীন যেভাবে কয়েক রাত দুঃস্বপ্ন দেখেই একেবারে বদলে গেল, তাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। ডামরীর ভূমিকায় পার্নো মিত্র ভাল কাজ করেছেন। কিন্তু চিত্রনাট্যের সাহায্য পাননি। আর মেকআপও যথাযথ নয়। অভিনেতা  অনির্বাণ ভট্টাচার্য, বলতে গেলে একাই ছবিটি বহন করেছেন। যথারীতি অত্যন্ত ভালো কাজ করেছেন অনির্বাণ।  তাঁকে সাহায্য করেছেন সুদীপা বসু, রজতাভ এবং শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়। হরর ছবিতে যে আতঙ্কের আবহ ছবিটিকে মনোগ্রাহী করে তোলে, ‘ভোগ’ তাতে অসফল।


Scroll to Top