
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসায় আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ। দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার একটা বড় অংশ এই রাজ্যে। বাংলাদেশের সঙ্গে ২,২১৬.৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের। ভাষা-সংস্কৃতির মিল থাকায় দুই বাংলার মানুষের পরস্পর বিষয়ে আগ্রহও যথেষ্ট। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কাঁটা হয়ে রয়েছে তিস্তার জল বন্টন চুক্তি নিয়ে টানাপড়েন। এর মূল কারণ মমতা ব্যানার্জির আপত্তি। তাঁর মতে, তিস্তার জল ভাগাভাগি হলে উত্তরবঙ্গের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একেই গ্রীষ্ম ও শীতকালে নদীর জল শুকিয়ে যায়, তার ওপর সেই জলে বাংলাদেশ ভাগ বসালে ভারতে পানীয় ও কৃষি কাজে ব্যবহৃত জলে টান পড়বে। শুধু তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে বাধা দেওয়া নয়, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ফারাক্কা চুক্তি নবীকরণেও বাধা দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বিষয় হলেও রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন্দ্র এইসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কারণ এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গবাসীর স্বার্থ জড়িত। ২০১১ সালে তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সময় বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গেছিলেন মমতা। সেই সঙ্গে অবশ্য তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালবাসা রয়েছে। তবে কোনো কারণেই তিনি তাঁর রাজ্যের মানুষের কল্যাণ নিয়ে সমঝোতা করতে রাজি নন।
আপাতভাবে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির সম্পর্ক বরাবরই ভাল ছিল। শুধু একটি বিষয়ে বিরোধ ছিল, সেটি হল তিস্তার জল। অনেকসময় শেখ হাসিনাকে অভিমান করেও বলতে শোনা গেছে, উনি কি সত্যিই তিস্তার পানি আটকে রাখবেন চিরকাল? শেখ হাসিনার আমলে ভারত- বাংলাদেশ সম্পর্ক খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। হাসিনা 'গণআন্দোলনের' ফলে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন ২০২৪ -এর আগস্টে আর ২০২৬-এর মে মাসে মমতা ক্ষমতা হারালেন জনগণের রায়ে। বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে রয়েছেন ভারতের আশ্রয়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত- বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক কালে তেমন বড় মোড় আসেনি। সম্প্রতি রাজনীতিভিজ্ঞ, বাংলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত প্রাক্তন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। এবার দেখার তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় কিনা। বাংলাদেশ সেদিকেই তাকিয়ে।