
প্রত্যাশিত ছিল। তবু দু চারটি অন্য নামও ভাসছিল হাওয়ায়। শেষমেষ বোঝা গেল, সেসব ছিল নেহাত কথার কথা। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর সময় যেমন গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেল তৃণমূল, ঠিক তেমনই শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শুভেন্দু ঝড়ে উড়ে গেল বাকি নামগুলো। অমিত শাহ বললেন, মুখ্যমন্ত্রী পদের বিকল্প কোনো নামই ওঠেনি পরিষদীয় দলের বৈঠকে। রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেদিনীপুরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা মাত্র জিন্দাবাদ স্লোগানে ভরে গেল চারপাশ।
যুব কংগ্রেস নেত্রী থাকার সময় মমতা ব্যানার্জির বিশ্বস্ত অনুগামী ছিলেন শুভেন্দু। ১৯৯৩-এর সেই একুশে জুলাই অভিযানেও ছিলেন। আদ্যন্ত রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে উচ্চাকাঙ্খী হবেন,সেটাই স্বাভাবিক। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর তাঁর উত্থান অনেকেরই নজর কেড়েছিল। ক্রমে যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি হন শুভেন্দু। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুনাল ঘোষের প্রতিপত্তি বাড়ে দলে, যেটা তরুণ শুভেন্দুর অপছন্দ ছিল। ২০১১ সালে ব্রিগেডের মঞ্চে দেখা গেলেও শুভেন্দু নিজে অনুভব করেন, তাঁকে দলে ঠিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এরপর একসময় সৌমিত্র খাঁ যুব তৃণমূল সভাপতি হন। তাছাড়া মুকুল রায় যেভাবে সুপ্রিমোর পরেই উঠে এলেন কর্তৃত্বে, তাতে শুভেন্দু বুঝে গেছিলেন, এই দলে প্রথমসারিতে জায়গা পাওয়া কঠিনতর হয়ে উঠছে। দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল তাঁর। কফিনে শেষ পেরেক পুঁতল অভিষেকের উত্থান ও আধিপত্য।
শুভেন্দুর তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া কিছুদিন আটকে রেখেছিলেন বাবা শিশির অধিকারী। পুরনো কংগ্রেসী শিশিরবাবু চাননি ছেলে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাক। মমতাও শিশিরবাবুকে অনুরোধ করেছিলেন শুভেন্দুকে বোঝাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আটকানো যায়নি শুভেন্দুকে। ২০০০ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি। যে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন তাঁকে জননেতা বানালো, সেই নন্দীগ্রামেই তিনি ২০২১ সালে হারালেন একসময়ের আদর্শ মমতা ব্যানার্জিকে। সেসময় যাঁদের দ্বিধা ছিল শুভেন্দুকে জায়েন্ট কিলার বলতে, তাঁদের সামনেই ঘটল ২০২৬-এর ভোটের সবচেয়ে বড় চমক- ভবানীপুরে মমতাকে হারানো। এবার নন্দীগ্রামে জয়ের হ্যাটট্রিক বোনাস পয়েন্ট।
যাঁরা বলেন, আরও অনেক আগমার্কা বিজেপি নেতার মত শুভেন্দুর সঙ্ঘ যোগ তেমন ঘনিষ্ঠ নয়, তাঁরা আসলে ভুল বলেন। বেশ কয়েকবার আর এস এসের বিশেষ কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন তিনি। দলীয় নেতৃত্ব জানে তাঁর হিন্দুত্ববাদী আদর্শ।
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে স্বামী বিবেকানন্দের 'চরৈবেতি' মন্ত্র উচ্চারণ করে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্মাণের অঙ্গীকার করেন তিনি। এবারে বিজেপির প্রাপ্ত ৪৬% ভোটকে আগামী বার ৬০%-এর বেশি করার শপথও নেন। মোদি-শাহের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। রবীন্দ্র জয়ন্তীর সকালে শপথ, তার কিছু ঘন্টা আগে রবীন্দ্রনাথের ' চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির' শোনা গেল ভাবী মুখ্যমন্ত্রীর কন্ঠে।